তারা মন্ত্র জপের অবিশ্বাস্য ফল- মন্ত্র জপের প্রক্রিয়া ও উপকারিতা



দশ মহাবিদ্যার মধ্যে দ্বিতীয়া মহাবিদ্যা হলেন ভগবতী তারা। মা কালীর পরেই মা তারার স্থান। তিনি নীল সরস্বতী, উগ্রতারা, একজটা নামেও পরিচিত। যাঁরা অকাল মৃত্যু ভয়, শত্রু পীড়া, মামলা-মোকদ্দমা, ভূত-প্রেত বাধা, দীর্ঘ রোগ বা মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন মা তারার কৃপা তাঁদের জীবন একেবারে বদলে দেয়।

মূল মন্ত্র: ওউং হ্রীং স্ত্রীং হুং ফট্ (ওঁ হ্রীং স্ত্রীং হুং ফট্)

বীজ মন্ত্র : ওউং হ্রীং স্ত্রীং হুং ফট্ স্বাহা

সাধনা মন্ত্র : ওউং হ্রীং স্ত্রীং হুং ফট্ কুরু কুরু (অমুকের নাম) ফট্ স্বাহা (শত্রু নাশ বা বশীকরণের জন্য)

সাধনার সহজ পদ্ধতি:
  • স্নান করে নীল বা সাদা কাপড় পরুন।
  • মা তারার ছবি বা যন্ত্র সামনে রাখুন। নীল পদ্ম বা নীল ফুল, নীল চন্দন অর্পণ করুন।
  • সন্ধ্যার পর বা রাত ১০টার পর শুরু করা সবচেয়ে উত্তম।
  • প্রথমে গুরু মন্ত্র বা “ওউং গুরুজি নমঃ” ৩ বার জপ করুন।
  • তারপর মূল মন্ত্র কমপক্ষে ১ মালা (১০৮ বার) জপ করুন। যাঁরা বেশি করতে পারেন, তাঁরা ৫ মালা বা ১১ মালা করুন।
  • জপ শেষে মাকে প্রণাম করে বলুন: “মা আমার সমস্ত বাধা দূর করুন, আমাকে আশীর্বাদ করুন।”
  • ২১ দিন, ৪০ দিন বা ১০৮ দিন পর্যন্ত নিয়মিত করলে অলৌকিক ফল পাওয়া যায়।

তারা মন্ত্র জপের অলৌকিক উপকার:
  • অকাল মৃত্যুর ভয় দূর হয়, আয়ু বাড়ে।
  • দীর্ঘদিনের রোগ (ক্যান্সার, হার্টের সমস্যা সহ) থেকে মুক্তি মেলে।
  • শত্রুরা নিজে থেকেই পরাজিত হয় বা দূরে চলে যায়।
  • মামলা-মোকদ্দমায় অব্যর্থ বিজয়।
  • ভূত-প্রেত, কালো জাদু, অভিচারের প্রভাব একেবারে নষ্ট হয়।
  • বুদ্ধি, স্মরণশক্তি, বাক্সিদ্ধি বৃদ্ধি পায় (বিদ্যার্থীদের জন্য অতি উত্তম)।
  • মানসিক অশান্তি, ডিপ্রেশন, ভয়-উদ্বেগ দূর হয়।
  • গৃহে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।

বিশেষ টিপস:

  • মেয়েরা ঋতুকালে জপ করতে পারবেন না, শুধু মনে মনে মাকে স্মরণ করবেন।
  • নিরামিষ আহার করলে ফল আরও তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।
  • নীল চন্দনের তিলক লাগিয়ে জপ করলে মন্ত্র শক্তি বহুগুণ বাড়ে।
  • প্রতি মঙ্গলবার বা শুক্রবার নীল ফুল বা নীল মিষ্টি মায়ের ছবিতে অর্পণ করুন।

মা তারা অত্যন্ত দয়াময়ী। যাঁরা একবার আন্তরিকভাবে ডাকেন, মা তাঁকে কখনো ফিরিয়ে দেন না। জয় মা তারা! জয় জয় মা তারা।

আপনি কবে থেকে তারা মন্ত্র জপ শুরু করছেন? কমেন্টে জানান। পরবর্তী পোস্টে তারা কবচ ও তারা যন্ত্র নিয়ে আসবো।


No comments